ENGLISH
- Advertisement -Newspaper WordPress Theme
তরুণ উদ্যোক্তাবিবিসির ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় কুড়িগ্রামের রিকতা

বিবিসির ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় কুড়িগ্রামের রিকতা

আতিকুর রহমান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

বিবিসির চলতি বছরে প্রকাশিত বিশ্বের অনুপ্রেরণাদায়ী ও প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রিকতা আখতার বানু।


বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিবিসি এ তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে পাঁচটি বিভাগে বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিভাগগুলো হলো—জলবায়ুকর্মী, সংস্কৃতি ও শিক্ষা, বিনোদন ও ক্রীড়া, রাজনীতি ও অ্যাডভোকেসি এবং বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি।


তালিকায় থাকা রিকতা আখতার দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পেশায় একজন নার্স। তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করে প্রশংসিত হয়েছেন।

রিকতা বানু ২০০৮ সালে ৯ বছরের বাক প্রতিবন্ধী সন্তান তানভীর দৃষ্টি মনিকে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করান। কিন্তু কয়েকদিন পর স্কুল কর্তৃপক্ষ মেয়েটিকে অপমান করে স্কুল থেকে বের করে দেন। এরপর স্বামীকে নিয়ে ২০১০ সালে টিনের ঘরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য স্কুল তৈরি করেন। স্কুলের নাম ‘রিকতা আখতার বানু (লুৎফা) বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল’। শুরুতে এই স্কুলের শিক্ষক ছিলেন ৪ জন। ২০২০ সালে এই স্কুল এমপিওভুক্ত হয়।


রিকতা বানুর স্কুল থেকে ব্রহ্মপুত্রের দূরত্ব ৪০০ মিটারেরও কম। রমনা ঘাট থেকে কুড়িগ্রাম অভিমুখী সড়কের পাশেই চলে এই স্কুলের কার্যক্রম। থানাহাট, ডাউয়াটারি, জোড়গাছ, গুয়াতিপাড়া ও সরকার পাড়াসহ ব্রহ্মপুত্রে পাড়ের বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা এখানে পড়ালেখা করতে আসে।


আবার কেউ আসে ৫-৬ কিলোমিটার দূর থেকে। স্কুলে আসা যাওয়ার জন্য রয়েছে স্কুল ভ্যান। এই স্কুলে প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের স্পিচ থেরাপিসহ নানা বিষয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
এ স্কুলে এখন ৩০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বর্তমানে স্কুলের ২১ জন শিক্ষক-কর্মচারী আছেন। তাঁরা নিয়মিত বেতন–ভাতা পান। এই অনন্য কাজের স্বীকৃতি পেয়ে খুশি রিকতা বানু ও স্কুলের শিক্ষক এবং অভিভাবকরা।


৬৩ জন বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে নিয়ে শুরু হয়েছিল রিকতা বানুর স্কুলটি। শিক্ষার্থীদের দুপুরের নাশতার দেওয়ার জন্য সংসারের বাজেট কাটছাঁট করেছিলেন তিনি। পরে স্কুলটি এমপিওভুক্ত হলে শিক্ষকদের চাঁদার টাকায় নাস্তা দেওয়া হয়। এর বাইরে সপ্তাহের একদিন ও বিশেষ দিনে ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিশুদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেন তিনি।


রিকতা বানুর স্বপ্ন দেখেন, তাঁর প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি হবে আবাসিক। দূর–দূরান্ত থেকে শিশুরা এখানে পড়ালেখা করতে আসবে। হাতে-কলমে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে মূল স্রোতে মিশে যাবে সমাজের অবহেলিত শিশুরা।


বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে জানতে চাইলে রিকতা আখতার বানু বাণিজ্য প্রতিদিনকে জানান‚ আমার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মেয়েকে জেনারেল স্কুলে দিয়েছিলাম। সেখান থেকে শিক্ষকরা তাকে বের করে দিয়েছিলেন এবং অনেক অপমান করেছেন।


তিনি বলেন, পরপর তিনবার এমন ঘটনা ঘটেছে। তার পর স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে একটা স্কুল করার উদ্যোগ নেই। আমার মেয়েসহ ৮ থেকে ৯ জন প্রতিবন্ধী বাচ্চা নিয়ে স্কুলটি শুরু করি। কিন্তু স্কুল করতে গিয়ে সেখানে দেখি ৭৩টি বাচ্চা। পরে তাদের সবাইকে নিয়ে শুরু করি।


বিবিসির তালিকায় নাম আসা নিয়ে তিনি বলেন‚ ‘বিবিসির তালিকায় যেতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। এমনটি হবে আমি কল্পনাও করতে পারিনি। আমি বিশ্বের ১০০ নারীর তালিকায় স্থান পেয়েছি এ নিয়ে যে আনন্দ তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়।


রিকতা বানু তার স্কুলের সব শিশুকে মাতৃস্নেহে আগলে রাখেন। সে কারণে স্কুলটি এখন এলাকায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বাবা–মায়ের ভরসার জায়গা।


এই স্বীকৃতির জন্য অভিভাবক, শিক্ষক, গণমাধ্যম, সরকার ও বিবিসির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রিকতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমরা খুঁজছি তোমাকেই

তুমি কি ভিডিও বানাও? লেখালেখি ভালোবাসো? ছবি তুলতে ভালো লাগে? তোমার চোখে দেখা বাস্তবতাই বদলে দিতে পারে সমাজের চিত্র। এখনই আবেদন করো লাল সবুজ প্রকাশ-এর সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য

ক্লিক করো এখানে

বিশেষ প্রতিবেদন ⇢

- Advertisement -Newspaper WordPress Theme

সর্বশেষ প্রতিবেদন

More article

- Advertisement -Newspaper WordPress Theme